
আসুন_জেনে_নিইঃ
জরিপ_ইতিহাসঃ
↘️ভূমি জরিপের ইতিহাস পাঠান সম্রাট শেরশাহ সর্ব প্রথম এ উপ-মহাদেশে জরিপ প্রথা চালু করেন। পরবর্তীতে মোঘল সম্রাট আকবরের একজন অন্যতম সভাসদ টোডরমল সার্ভে ও সেটেলমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু উক্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ এবং plot-to-plot সার্ভে কার্যক্রম ছিলনা বরং একটি সংক্ষিপ্ত কার্যক্রম ছিল।
➡️ক্যাডাস্ট্র্যাল সার্ভে (সি.এস.জরিপ)ঃ
১৮৮৫ ইং সালের বংগীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০ম পরিচ্ছেদের বিধান অনুসারে ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারা দেশে সি.এস.জরিপসম্পন্ন করা হয়। এ কর্মসূচীতে কক্সবাজারের রামু থানা হতে আরম্ভ করে ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় সার্ভে এন্ড সেটেলমেন্ট অপারেশন শেষ করার মাধ্যমে সি.এস.জরিপের পরিসমাপ্তি ঘটে। ঐ সময়ে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অর্ন্তভূক্ত থাকায় বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের আওতাভূক্ত ছিল না বিধায় সিলেট জেলায় সি.এস.জরিপ হয়নি। তবে জরিপ কার্যক্রম জরুরী বিবেচনায় ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের (Sylhet tenancy Act) আওতায় জেলার ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়। উক্ত জরিপে নকশা ও রেকর্ড উভয়ই প্রস্তুত করা হয়। সি.এস.জরিপের মাধ্যমে প্রতিটি মৌজার জন্য নকশা (ম্যাপ)প্রস্তুত করে প্রতিটি ভূমি খন্ডের বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণী, জমির পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করে খতিয়ান প্রণয়ন করা হয়। সি.এস.খতিয়ান ও নকশা খুবই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য ছিল। সি.এস. জরিপে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে লেখা থাকত এবং দখলকার রায়তের নাম নিচে লেখা থাকত। তখন জমির মালিক ছিলেন সরকার পক্ষে জমিদারগণ এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে শুধুমাত্র ভোগ দখলকার ছিলেন।
➡️এস. এ. পূর্ববর্তী সংশোধনী জরিপঃ
সি.এস.জরিপের মাধ্যমে নকশা ও রেকর্ড প্রস্তুতির পর সময়ের ব্যবধানে ভূমির প্রকৃতিও মালিকানায় ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায় তা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার ১৮৭৫ সালের সার্ভে আইনের ৩ ধারা এবং ১৮৮৫ সালের বি.টি. এ্যাক্ট এর আওতায় পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সংশোধনী জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৩৩ সালে একটি নীতিমালা জারী করা হয় যাষ্ট্যন্ডার্ড রুলস্ রিগার্ডিং দি রিভিশনাল সেটেলমেন্টস এ বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার ১৮৭৫ সালের সার্ভে আইনের ৩ ধারা এবং ১৮৮৫ সালের বি.টি.এ্যাক্ট এর আওতায় পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সংশোধনী জরিপ (আর.এস) কার্যক্রম গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সংশোধনী জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য১৯৩৩ সালে একটি নীতিমালা জারী করা হয় যা ষ্ট্যান্ডার্ড রুলস্ রিগার্ডিং দিরিভিশনাল সেটেলমেন্ট অপারেশনস ইন বেঙ্গল, ১৯৩৩ নামে প্রকাশিত। এর আওতায়১৯৪০ সালে বৃহত্তর ফরিদপুর ও বরিশাল জেলায় আর.এস. জরিপ আরম্ভ হয়। অতঃপর১৯৪৫ সালে ফরিদপুর এবং ১৯৫২ সালে বৃহত্তর বরিশাল জেলায় আর.এস. কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
➡️এস.এ. জরিপঃ
১৯৫০সালের জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের (State acquisition and Tenancy Act. 1950) এর আওতায় ১৯৫৬ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করে প্রজাদেরকে সরাসরি মালিকে পরিণত করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় জমিদারগণের নামের তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অধিনস্থ রায়তের নাম, জমির বিবরণ, খাজনার পরিমাণ সম্বলিত তালিকাও প্রস্তুতকরা হয়। জমিদারগণের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী তালিকা (Compensation Assesment Roll) প্রণয়নের পর রায়তের বিবরণ সম্বলিত তালিকাটি খতিয়ান হিসেবে গণ্য করে কালেক্টরেটগণের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এটিই এস.এ. রেকর্ড হিসেবে পরিচিত যাকে অনেকেই আমরা এৃ.আর.আর বলে থাকি। এস.এ. জরিপের সময়ে ঢাকাসহ কিছু বিবাদপূর্ণ মৌজায় এবং কোন কোন পৌর এলাকায় ক্যাডাষ্ট্রাল জরিপের পদ্ধতিতে ম্যাপ ও রেকর্ড প্রণয়ন করা হয়েছে যার ম্যাপ ও রেকর্ড মুদ্রিতও হয়। এস.এ. জরিপ কার্যক্রমে সরেজমিনের সঙ্গে ম্যাপ ও রেকর্ড মিল করে রেকর্ড প্রণীত না হওয়ায় খতিয়ানের বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কিছু সন্দেহের আবকাশ থেকে যায়। এস.এ জরিপে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানগুলো অধিকাংশই হাতের লেখায় চূড়ান্ত করা হয়। এস.এ. রেকর্ডের অংশীদার বিশিষ্ট খতিয়ান গুলোতে রেকর্ডীয় মালিকদের নামে নামে সর্বক্ষেত্রে অংশ লেখা হয়নি বিধায় পরবর্তীতে স্বত্ব (Title) নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়।
➡️এস. এ. পরবর্তী সংশোধনী জরিপঃ
এস.এ. রেকর্ড চলমান অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুলভ্রান্তির কারণে সারা দেশে প্রচুর অভিযোগ তথা জনসাধারণের মধ্যে গণ- অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি যাঁচাই করার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ভূমি রাজস্ব কমিশন গঠন করেন। এ কমিশন ” খান বাহাদুর মাহমুদ কমিশণ” নামে পরিচিত ছিল। উক্ত কমিশন ১৯৫৯ সালের জুলাই মাসে এস.এ. রেকর্ডের ভুলত্রুটি স্বীকার করে একটি রিপোর্ট প্রদান করেন। পরবর্তীতে সরকার পূণরায় ১৯৬২ সালে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এর নেতৃত্বে “ভূমি রাজস্ব প্রশাসনতদন্ত কমিটি” গঠন করেন। উক্ত কমিটির প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ওপ্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ (১) ধারায় সংশোধনী জরিপ চালু করে নকশা ও রেকর্ড হালকরণের প্রস্তাব করা হয়। উক্ত প্রস্তাব মোতাবেক ১৯৬৫-৬৬ সালে দেশ ব্যাপী সংশোধনী জরিপ আরম্ভ হয়। এ কর্মসূচীতে রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পাবনা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের জরিপ কর্মসূচী শেষ হয় (১৯৬৬ হতে ১৯৭৯পর্যন্ত)।
➡️জোনাল জরিপঃ
ভূমি রেকর্ড হালকরণ ও ভূমি রাজস্ব আদায়ের সমস্যাবলী দূরীকরণের মাধ্যমে প্রশাসনে সংস্কার আনয়নের জন্য তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব, এ.কে.এম মোশারফ হোসেন এর সভাপতিত্বে ” ভূমি রাজস্ব প্রশাসনিক সমস্যা তদন্তকমিটি” গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন সমস্যার কথা বিবেচনা করে সংশোধিত জরিপ কার্যক্রমে পদ্ধতিগত যুগোপযোগী পরিবর্তন আনয়নের সুপারিশ করেন। উক্ত সুপারিশের ভিত্তিতে নিকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকার বৃহত্তর জেলায় জরিপের জোনাল অফিস গঠন করে এর আওতাভূক্ত প্রতিটি থানায় একটি করে থানা সেটেলমেন্ট অফিস গঠন করে। ১৯৮৫-৮৬ সাল হতে ১০ টি বৃহত্তর জেলায় (যশোর, বগুড়া, ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট) এ কার্যক্রমচালু হয়।
➡️ভূমি জরিপ পদ্ধতি ও স্তরসমূহঃ
১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় আধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪(১) ধারা এবং ১৮৭৫ সালের সার্ভে এ্যাক্টের ৩ ধারা মোতাবেক সরকার কর্তৃক কোন নির্দিষ্ট এলাকা/মৌজার জরিপ কার্যক্রম শুরু করার আদেশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার প্রজ্ঞাপন জারী করে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেন। জরিপ কার্যক্রম কতিপয় সুনির্দিষ্ট স্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫ এর ২৭ বিধিতে ১০ টি স্তরের উল্লেখ আছে।
➡️ট্রাভার্স জরিপ (Travers):
কোন মৌজার ৩৩% এর বেশী প্লট পরিবর্তিত হলে একটি নতুন প্লেন সিটে ট্রাভার্স জরিপের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুত করতে হয়। এরূপ সিটকে পি-৭০ সিট বলে। একজন ক্যাম্প অফিসারের নের্তৃত্বে ট্রাভার্স সার্ভেয়ার, কম্পিউটর ও কতিপয় খালাসীসহ একটি ট্রাভার্স দল গঠন করে ট্রাভার্স জরিপ সম্পন্ন করা হয়। ট্রাভার্স সার্ভেয়ার থিওডোলাইট যন্ত্রের সাহায্যে ট্রাভার্স ষ্টেশন চিহ্নিত করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেন। চিহ্নিত বাঁশের খুঁটিগুলো কম্পিউটেশনের মাধ্যমে গোলাকার চাঁদ আকারে মোটা সিটে সন্নিবেশিত করে কিস্তোয়ার কাজ করার জন্য সিট গুলো সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট সরবরাহ করা হয়।
➡️কিস্তোয়ার (Kistowar)ঃ
একটি মৌসুমী আমিনদল পি-৭০ সিটে অথবা ব্লু-প্রিন্ট সিটে কিস্তোয়ার সম্পন্ন করে থাকেন। নকশায় ৩৩% এর কম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাবেক নকশার i ব্লু-প্রিন্টসিটে কিস্তোয়ার করা হয়ে থাকে। মৌসুমী আমিন সার্ভে যন্ত্রপাতির সাহায্যে প্লট-টু-প্লট জরিপ করে নকশা প্রস্তুত করে থাকেন। কিস্তোয়ার মাধ্যমে মৌজা নকশায় মৌজায় প্রতিটি ভূমি খন্ডের অবস্তানগত প্রতিচ্ছবি নির্ধারিত স্কেলে (সাধারণত ১৬” = ১ মাইল স্কেলে) অংকন করা হয়।
➡️খানাপুরি (Khanapuri)ঃ
এ স্তরে কিস্তোয়ারকৃত ভূমি খন্ডের নকশায় দাগ নম্বর দেয়া হয়। এ নকশায় ভূমিখন্ড গুলো উত্তর পশ্চিম কোণ হতে নাম্বারিং করা হয়। এ স্তরে খতিয়ান খোলা হয়, তবে খতিয়ানে জমির পরিমাণ লেখা হয় না। খতিয়ানে শুধু মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির শ্রেণী, পরিমাণ, দাগ নম্বর, ইত্যাদি সন্নিবেশ করা হয়। সরদার আমিন, বদর আমিনের সহায়তায় উপস্থিত ভূমি মালিকদের কাগজপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনাক্রমে খতিয়ান প্রণয়ন করেন। খতিয়ান ধারাবাহিক নম্বর দিয়ে খুলতে হয়।
১ নং খতিয়ানে সরকারের খাস জমি কালেক্টরের নামে এবং ১/১ খতিয়ানে অর্পিত সম্পত্তি কালেক্টরের রেকর্ড করা হয়। ১ ও ১/১ খতিয়ান লেখার পর পরবর্তীগুলো রেওয়াজ অনুযায়ী এ কোন সরকারী/আধা সরকার বিভাগের নামে আগে বা পরে লেখা যেতে পারে। সর্বশেষে সাধারণ ভূমি মালিকদের খতিয়ান খুলতে হয়।
➡️বুঝারত (Bujharat)ঃ
খানাপুরী স্তরে প্রণীত খতিয়ানে অংশ অনুযায়ী জমির পরিমাণ লিখে ভূমি মালিকগণের নাম, জমির পরিমাণসহ সকল তথ্য সন্নিবেশ করে ভূমি মালিকগণকে বুঝিয়ে দিয়ে খতিয়ানের একটি অনুলিপি সরদার আমিন তারিখসহ স্বাক্ষর প্রদান করে সরবরাহ করে থাকেন। খতিয়ানের এ অনুলিপিকে পর্চা বলে। এ স্তরে খতিয়ান ও নকশায় কোন ত্রুটি থাকলে ভূ-মালিক মাঠে আমিনের নিকট নির্ধারিত ফরমে (বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৫) বিবাদ কেস (ডিসপুট) দাখিল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি লাগে না। অফিসার (উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার) পরবর্তী পরিদর্শন দিবসে পক্ষগণকে শুনানী দিয়ে ডিসপুট নিস্পত্তি করবেন।
➡️তসদিক (Attestation)ঃ
প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ২৮ বিধি মোতাবেক রাজস্ব ক্ষমতা প্রাপ্ত একজন উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার উপজেলা পর্যায়ে অথবা ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্যাম্প স্থাপন করে কর্মসূচী দিয়ে ভূমি মালিকদের উপস্থিতিতে প্রতিটি খতিয়ান লাল কালিতে সত্যায়ন করবেন। কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে ভূমি মালিক নির্ধারিত ফরমে (বাংলাদেশফরম নং ৫৪৬৫ ) ডিসপুট দাখিল করতে পারেন। ডিসপুট দাখিলের জন্য কোন কোর্ট ফি লাগে না। তসদিক অফিসার পক্ষগণকে শুনানী দিয়ে ডিসপুট নিস্পত্তি করবেন।
➡️খসড়া প্রকাশনা (Draft Publication)ঃ
প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ২৯ বিধি মোতাবেক খসড়া প্রকাশনা দেয়া হয়। খসড়া প্রকাশনা কালে কমপক্ষে ১ (এক) মাস ডি.পি.খতিয়ান ভূমি মালিকের দেখার জন্য খোলা থাকে।ডি.পি. খতিয়ানে কোন ভূল ত্রুটি থাকলে ভূমি মালিক নির্দিষ্ট ফরমে নির্ধারিত কোর্ট ফি দিয়ে আপত্তি কেস দায়ের করতে পারেন। ডি.পি. চলাকালীন আপত্তি কেসদায়ের করতে হয়।
➡️আপত্তি (Objection)ঃ
প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫ এর ৩০ বিধি মোতাবেক আপত্তি অফিসার আপত্তি কেস নিস্পত্তি করে থাকেন। আপত্তি অফিসার পক্ষগণকে নোটিশ দিয়ে শুনানী প্রদান করে আপত্তি কেস নিস্পত্তি করে থাকেন। আপত্তি অফিসার রায় প্রদানের সাথে সাথে খতিয়ান ও নকশায় (প্রয়োজনে) সংশোধন করবেন। কোন পক্ষ প্রয়োজন হলে নকশা সংশোধনের জন্য বদরের আবেদন করতে পারেন। আপত্তির রায়ে সংক্ষুদ্ধ পক্ষ রায়ের নকল সংগ্রহ করে ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপীল কেস দায়ের করতে পারেন।
➡️আপীল (Appeal)ঃ
৩০ বিধি মোতাবেক দায়েরকৃত আপত্তি মামলার রায়ে কোন পক্ষ সংক্ষুদ্ধ হলে প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ৩১ বিধি মোতাবেক আপীল কেস দায়ের করতে পারেন। এরূপ আপীল উক্ত আপত্তির রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়। আপীল অফিসার নির্ধারিত কর্মসূচী মোতাবেক কমপক্ষে ৭ দিনের পূর্বে পক্ষগণকে নোটিশ দিয়ে আপীল শুনানী কেস নিষ্পত্তি করবেন।
প্রতিবেদনঃ শোয়াইব নিউজ